ঢাকা , রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে নিয়ম ভেঙে ৮ বছর ধরে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব, প্রশ্নের মুখে কলেজ প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-১৯ ১০:৪৩:৫২
কুড়িগ্রামে নিয়ম ভেঙে ৮ বছর ধরে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব, প্রশ্নের মুখে কলেজ প্রশাসন কুড়িগ্রামে নিয়ম ভেঙে ৮ বছর ধরে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব, প্রশ্নের মুখে কলেজ প্রশাসন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-



কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে উপাধ্যক্ষ নিয়োগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি প্রায় আট বছর ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদনপত্র প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে মো. আসাদুজ্জামান সরকারের আবেদন প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় বাতিল করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি কলেজের রেজুলেশন খাতার ৫৪ নম্বর পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ রয়েছে। একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও ১৭ জন যোগ্য প্রার্থী থাকলেও কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।


পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৬ জুলাই একই পদে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, পূর্বে অযোগ্য ঘোষিত একই প্রার্থীকে কোনো নতুন বা অতিরিক্ত যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং পরে তাকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একই ব্যক্তিকে একবার অযোগ্য এবং পরে যোগ্য ঘোষণা করার আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার ২০০২ সালের ২ সেপ্টেম্বর চর হলোখানা এমদাদিয়া আলিম মাদরাসায় প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।


২০০৩ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সেখানে কর্মরত ছিলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী (রেগুলেশন-২০১৫)’ অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তিনি যোগ্যতা হিসেবে আলিম মাদরাসায় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন, যা ডিগ্রি কলেজ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে বিধিমালা অনুযায়ী তিনি ওই পদের জন্য যোগ্য ছিলেন না বলে অভিযোগকারীদের দাবি। অভিযোগকারী ও কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ আব্দুর রশিদ বলেন, “তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে কলেজের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। আশা করছি, কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। আমি নিয়ম মেনেই এই পদে বহাল রয়েছি। আপনারা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।”


কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ গোলাম ওয়াদুদ বলেন, “সম্প্রতি বিষয়টি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপাধ্যক্ষ নিয়োগটি ২০১৭ সালে হয়েছে। তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের বিধিমালা কার্যকর ছিল। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার আলিম পর্যায়ের মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের অভিজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য নয়। আমার মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটেছে।” ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মোঃ আরাবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমিও শুনেছি। গভর্নিং বডির সভায় অভিযোগটি উত্থাপন করে এর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ